আমার স্বপ্নেরা

সিদ্ধার্থ বসু



“স্বপ্নে আমার মনে হলো, কখন ঘা দিলে আমার দ্বারে, হায়
আমি জাগি নাই জাগি নাই গো, তুমি মিলালে অন্ধকারে, হায়”
দেবব্রত গাইছেন | আর মধুর বিষাদ চুঁয়ে পড়ছে বৃষ্টিমলিন বিকেলের বুকে| শহরতলির ‘অচেতন মনোমাঝে’ বিধুর ঔদাস্যে বয়ে যাচ্ছে ‘বনের হাওয়া’| আমার শৈশবের স্বপ্ন, আমার বালকবয়েসের অবাধ স্বপ্নেরা, কৈশোরের অপরিণত স্বপ্ন আমার, আর যৌবনের ত্রস্ত সংকুচিত আতুর স্বপ্নের ভিড়—জলের রিমিঝিমি শব্দের সঙ্গে বয়ে চলেছে কোন অজানা নদীর স্রোতবরাবর| আমার যে অনেক ছিল সহেলী| কিছুই যে রইলো না আমার| দু-হাত দিয়ে তো ধরেছিলাম| ‘হাতেই কোনো ভুল ছিল কি তবে?’
ডোবা-ডোবা সন্ধের শহরে আমার বেড়ে ওঠা| লুপ্ত মফস্বল জুড়ে প্রচুর কাদাজল আর লাউড স্পিকার-বিরল বৃন্দগান ভেসে চলত: কীর্ত্তন, ভাগবত, দুয়েকটুকরো জমি-না-দেওয়ার গান| আমি গাইতে পারতাম না| শুধু সুর বেজে চলত মাথার মধ্যে| রামযাত্রা হত| কালীদাদু লক্ষ্মীর পাঁচালি লিখে শোনাতে আসত আমাদের বাড়ি| পাঁকে কাদায় হারিয়ে যাওয়া একটা রাস্তা বেয়ে বম্মাকে দেখতে আসত শিউরির দিদা| পাড়ায় একটাই টিভি ছিল তখন| দল বেঁধে দূরদর্শন কেন্দ্র কলকাতার সম্প্রচার দেখতে আসত পড়শীরা| আমাদের বাড়ির ছাদ থেকে তখন দাদু-তিত্তির বাড়িটাকে দেখা যেত| সে সময় স্বপ্ন ছিল শুধু পরীক্ষা-শেষের দিনগুলো| ইস্কুল, মার বকাঝকা, নজরদারি, পেরিয়ে বাত্সরিক খান দুই অবসর| সেই অপেক্ষাতেই ঘুরে গেছে কত না বছর| তখন নিশ্ছিদ্র ঘুম হত আমার| স্বপ্ন দেখতাম জেগে| আর তাতে থাকত শুধুই বন্ধুরা, আর মাঠ, আর ছুট|
আরো একটু পর থেকে শুরু হলো প্রেম আর ‘বিচ্ছেদের স্মৃতিবিষ’| সে সময় পুরোটাই মনে মনে| প্রধানত বয়সে বড় সাধ্যাতীত প্রেমিকাদের প্রতি চুপিচুপি ঝরে যেত সেইসব ‘আধো-খানি কথা’, ‘হৃদয়ে হৃদয়ে আধো পরিচয়’ অবধিও গড়াত না স্বতই| স্বপ্নের দখল নিতে লাগল নবোদ্গত যৌনবোধ| আর প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে থাকলেন রবীন্দ্রনাথ| কতসব অল্পশ্রুত ‘সে সুধা বচন’, কত না পাওয়া ‘সে সুখ-পরশ’ নিয়ে কেটে যেত ‘আধোজাগরিত তন্দ্রার ঘোর’| বেদিয়াপাড়ায়, আমার ছেলেবেলায়, প্রেমের বাতাস বইত| সারদা স্কুলের মেয়েরা ‘মহিষীর মতো’ ঘরে ফিরত| আর ‘চিরকালের ছেলেদের দিকে এগিয়ে’ যেত ‘চিরকালের মেয়েরা’| ‘চিরকালের আকাশ থেকে চিরকালের বৃষ্টি’ ঝরে পড়ত আমাদের এই গঞ্জে| মশলামুড়ির টেমি জ্বলত সন্ধে নামলেই|
তাসের আসর বসত মেজজেঠুদের চাতালে| ছোট্ট একফালি ইতিদিদিকে পাড়ার মাঝ থেকেই জয় করে নিয়ে ফিরল আমার লায়েক দাদা| বৌদি এসে উঠলো তার বছর দুই থেকে সাতের দেওর-ননদ দের আস্তানায়| গোপাল নাপিত বাড়ি বাড়ি এসে চুল-দাড়ি কেটে যেত| বড়জেঠু হঠাত কার্ডিয়াক স্ট্রোকে মারা গেলে পর ‘কামান’এর দিন দেখেছিলাম গোপালনাপিতের দর| ‘অত ব্যস্ত হওয়ার কী আছে? আমি তো আছি নাকি?’ হৃষ্ট আত্মবিশ্বাস গলে পড়ছিল গোপালের শীর্ণ মুখ বেয়ে| বিড়িতে দু-চার টান দিতে গেলেই যে কাশত| অনেক পরে অবশ্য বম্মা মারা যাওয়ায় আরো ধূমধাম করে লোক খাইয়েছিল আমার দাদা| বম্মা আগুনে পুড়ে মরেছিল| স্নান সেরে পুজোয় বসতে গিয়ে দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নয়|
সত্যি অর্থে যৌন-প্রেম বা প্রেমজ-যৌনতার শুরু হয়েছিল অনেক আগেই| কিন্তু বিষয়টা বাস্তবায়িত হতে দেরী হয়েছিল| ‘এর চেয়ে বড় স্বপ্নের কথা জানিনা, মানি না কিচ্ছু/ ছুরি দিয়ে প্রতি শাল গাছে গাছে লিখে দিই এই ইচ্ছে’—ততদিনে পড়া হয়ে গেছে| আমি আর সুমন্ত হই হই করে কবিতা পড়া শুরু করলাম| রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্ -শক্তি-শঙ্খ-প্রনবেন্দ -ভাস্কর-মৃদুল-রণজিত, আর খানিক অরুন মিত্র| আরো পরে উত্পল কুমার ও বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়| আমরা সারদা স্কুলের মেয়েদের ‘আলোতে ও গীতে’ ভরা জনবিরল নালাপথগুলোতে পালা করে ডিউটি দিতাম| হাতচিঠিও লিখেছি কত যে| ধরাও পড়ে গিয়েছি প্রায়শ| আর কি যে তিরস্কার! কি বিড়ম্বনা! ক্লাস টেনে পড়তে এক দিদিস্থানীয়ার প্রণয়জালে লিখলাম:
কেমন তুমি সহজ তাড়া করেছ আজ সারাবেলা
সকলে খুব ঠাট্টা করে, অবহেলায়
দিবস কাটে অযত্নে আর ধুলোখেলায়
বৃথাই কেন আসতে বলে অতিথিকে,
মাফ চাইলে শান্তমুখে? নিলে বিদায়?
যাবার আগে বিষন্নতা ফুটছিল কি? দেখিনি কেউ
আবার কবে দেখা করবে, বলনি তাও
তবুও কেন, অনিবার্য, তোমার পাশে গিয়ে দাঁড়াই?
কবিতাটা ছিল রদ্দি| কিন্তু আবেগটা ছিল খোলা,কাঁচা ঘা-এর| এমন আরো অনেক ঘটল| বারবার| ‘ধারাবাহিক প্রেম আর ধারাবাহিক ব্যর্থতা’| স্বপ্ন তখন দু-ফালায় বিদীর্ণ: প্রেম আর পরীক্ষাক্ষান্তি| আবার মিলও ছিল দুয়ের: পরীক্ষার শেষ মানেই অখণ্ড অবসর আর অবসর মানেই অনন্ত প্রণয়কথা|
এমনি করে উচ্চ মাধ্যমিক অবধি একপ্রকার কাটল| তারপর এসেছিল দুঃসহ আঠেরো বছর বয়স আর সেই বয়সে প্রথম বন্ধুবিয়োগ| হ্যাঁ, বিয়োগ| শুধু বিচ্ছেদ নয়, চিরবিচ্ছেদ| ছোট্টবেলার এক সঙ্গী হঠাত এক বৃষ্টির দুপুরে জলে ডুবে মারা গেল| গোটা স্কুলবেলাটা ধাক্কা মেরে নড়িয়ে দিয়ে গেল সেই মৃত্যু| আমার সামনের থেকে-দেখা প্রথম মরণ| কলেজে ভর্তি হলাম| স্বপ্নের বদল হয় নি আর| শুধু খেলার জায়গা অনেকটাই নিয়ে নিল আড্ডা| প্রথম, গভীর প্রেম-সম্পর্কের স্বাদ পেলাম| বয়ে নিয়ে চললাম তাকে: ফুলের ভার, ‘অগুরু, ফুলের ঢিপি, চন্দনের শ্বেত সমাচার/ তোমায় লাগে না ভালো আর’| বৃথা মেলার শেষও হলো অচিরেই: নিজের লাশের ভার নিজেকেই বইতে হয়, শিখলাম সে হেন বয়েসে| আবারও লিখলাম:
আমার খবর বলতে গেলে বৃহৎ
কিন্তু তেমন নতুন তো নয় কিছু
তোমার কাছে থাকতে চেয়েছিলাম
ছাড়তে আজও পারিনি তোমার পিছু
ইতোমধ্যে বার্তা এল বিপ্লবের| কোথায় পেলাম সে খবর? ‘ইউটোপিয়া একটা’, প্রাক্তনেরা হাসতেন| ‘উচ্ছন্নে যাবার পথ’, বলতেন অভিভাবকেরা| এসেফাই বলত, ‘এসেফাই এসেফাই এসেফাই ক্যারে পুকার’| কলেজের মেইন গেটে তালা পড়ে যেত মিটিং থাকলে| ইলেকশন হত না কখনই| অন্য দল নমিনেশন দিতে এলে মেরে ঠ্যাং খুলে নিত ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্তেরা| তাদের মুখেই সাম্যের কথা, গণতন্ত্রের কথা, বিপ্লবের কথা, লড়াইয়ের কথা শুনেছি| শুনেছি স্কুলে–কলেজে ফীজ না বাড়িয়ে নাকি উপায়ন্তর নেই| শুনেছি বেসরকারী স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সি ির হাতে একটু করে ছাড়তে হবে শিক্ষার দায়| আরো কত কি| বাবা ছিল ঘোর এন্টিসিপিয়েম; প্রো-কংগ্রেস; কিন্তু সুভাষচন্দ্রের রোম্যান্টিক ভক্ত| আর নক্সালদের ব্যাপারে মিডিওকার দু-নম্বরী সুড়সুড়িঅলা| আর ছিল বয়ে-যাওয়া এক খুড়তুতো মাসি আর তার দলবল| গ্যাংটক বেড়াতে গিয়ে মোমোর ছাউনিতে আমি শিখেছিলাম নক্সালবাড়ি একটা ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের নাম| ওদের মধ্যেও তখন দ্রুত ভাঙন ধরছিল| মিনুমাসী রাজনীতি ছেড়ে বিয়ে করলো, ওদেরই আরেক বিপ্লবীকে| অন্যেরাও একে একে মধ্যবিত্ত জীবনের দর-দস্তুরের তল করতে না পেরে পা ডুবিয়ে ফেলছিল কাদায়| শুধু লড়ছিল দুয়েকজন বাবাইদা:
“কেউ কেউ এখনো দাঁড়িয়ে
কেউ কেউ মাথা তুলে এখনো সটান
আগলে রেখেছে তারা একহাতে, পৃথিবীর গভীর জখম
অন্য হাতে রূপশালী ধান
প্রত্যয়ী পাথুরে চোয়াল
শমন তাদের মাথা নোয়াতে পারে না
এভাবেই আগামীর কাছে তারা রয়ে যাবে রূপকথা হয়ে
কেউ কেউ হয়, যারা কখনো হারে না”--
মান্টাদা লিখেছিল| আর আমি দেখেছিলাম বাদল সরকারের ‘বীজ’ শেয়ালদা লরেটো স্কুলে: বিপ্লব তার সঠিক সময়ের আগে—উপযুক্ত প্রস্তুতির আগে—হঠাত এসে পড়লে, তখনকার মত স্বপ্নভঙ্গ হয় হয়ত, কিন্তু ব্যর্থ হয় না তা বলে; দাগ রেখে যায়, কোনো এক অদেখা গভীরে লুকোনো ঘুমন্ত এক বীজের মত| মাথার মধ্যে ‘ইস্পাত’ ঘুরত, ঘুরতেন গোর্কি, মায়াকভস্কি| বন্ধ হয়ে-যাওয়া ‘রাদুগা’ প্রকাশন অন্য মাত্রা নিয়ে ফিরে এল| ‘প্রগতি’র বই খুঁজতাম ‘ভস্তকে’, ‘মনীষা’য়| শুধু মনে হত এই তো একচিলতে জীবন: মিলন-বিরহের, প্রণয়-বিচ্ছেদের| একে আমূল বদলাতে পারা যায় নিজের কথা একেবারে না ভেবে, কিম্বা একা-নিজের কথা না-ভেবে| এও কি সম্ভব? যে দেশের যে বিপ্লব যত বড় ব্যর্থতার মুখ দেখে থাকুক না কেন, সক্কলের হাতে রুটি ও গোলাপ-- থাকার জায়গা, পরার কাপড় আর ব্যাধির নিরাময় সবার সবার—এর চেয়ে বড় স্বপ্ন কি সত্যি কিছু হয়? স্বপ্নের তখন একটাই মানে : “you may say, i am a dreamer, but i am not the only one”. প্রেম আর বিপ্লবের স্বপ্ন মিলেমিশে এক হয়ে যেতে লাগল যখন প্রতুল মুখোপাধ্যায়কে গাইতে শুনলাম: “তুই কি ভাবিস তার ঘুমে সেই স্বপ্ন নেই?/আছে,...আছে.../সাপের মাথায় পা দিয়ে সে নাচে”| সুমনের আবির্ভাব হয়ে গেছে তখন, “শ্রেণীহীন সমাজের চিরবাসনায়/দিনবদলের খিদে ভরা চেতনায়/দ্বিধা-দ্বন্দ্ ের দিন ঘোচার স্বপ্নে”| বিগড়োনো জ্ঞানবৃদ্ধের মত বিড়বিড় করছি: “পাল্টে দেবার স্বপ্ন আমার এখনো গেল না”| প্রতুল গাইছেন: “যেতে হলে আগে চাই স্বপ্ন দেখা/ঘুমের গভীরে আর জেগে জেগে/সত্যির সারা গায়ে স্বপ্ন মাখা আর/স্বপ্নের গায়ে আছে সত্যি লেগে”| স্বপনপুরের এক ঝাপসা অবয়ব যেন লেগে থাকত চোখের পাতায়|
কিন্তু দ্রুত, ভয় জায়গা করছিল; নৈরাশ্য আর ভয়; সুবিধাবাদ| যত না ছুটে গেলাম, তার চাইতে বেশি লুকোলাম| যত না কাজে লাগলাম, কাজ গুছোতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম অনেক বেশি| বাবাইদা আমায় ছেড়ে গেল| বিপ্লব আমার স্বপ্নের মধ্যে দিয়ে নাতিদীর্ঘ পাদচারনায় বিদায় নিল| আমি একটা চাকরি জোটালাম, সরকারী: শিষ্ট, নিরুপদ্রব, নিস্তরঙ্গ চাকরি| আমার আশপাশ দিয়ে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ স্রোতের মত বয়ে চলল সিঙুর, নন্দীগ্রাম, লালগড়, সরকারে পালাবদল, বরুন বিশ্বাস, বারাসাত-কামদুনী, যাদবপুর, ভাঙর, ভাবাদিঘি, যশোর রোড| অযোধ্যা, গুজরাট, মুজঃফরনগরের কলাকুশলী বিজেপির হাতে ধুঁইয়ে উঠলো চেপে রাখা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাতাস| দাভলকার-কালবুরগি-পানে ার খুন হলেন| ঝোড়ো হাওয়ায় উড়ে গেল লিফলেটগুলো—যাতে লেখা ছিল ‘স্বপ্ন দেখার সাহস করো/স্বপ্ন ছাড়া মানুষ বাঁচে নাকি?’ ফ্রিজে কোন মাংস রেখেছে শুধুমাত্র সেই সন্দেহের নিরিখে খুন হয়ে গেল একটা আস্ত মানুষ| কাশ্মীরে, বস্তারে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, নিজের দেশের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে হিংস্র যুদ্ধ চালিয়ে গেল একটার পর একটা নির্বাচিত সরকার| আর আমি আবার ফিরে এলাম আমার নিজের গর্তে, যেখানে বিপদগুলো আমার চেনা, সম্পদগুলোও আমার নিজের বানানো, সংকটগুলোও|
শুধু মুখে বড় বড় কথা বলতাম| এক পা না এগিয়েই পিছিয়ে আসতাম সাত পা| বেদিয়াপাড়ার বাড়ি আমাদের জলের দরে বিকিয়ে গেল| ঠেকলাম গিয়ে আরো নতুন আতান্তরে| সমস্ত স্বস্তিদায়ী সামাজিকতার মুখ গেল থেঁতো হয়ে| ভাবলাম মরে গেলে কেমন হয়? কুত্সাও কম রটল না| প্রতিবাদহীন আমি--ঘুমের কাঙাল—খুপরি থেকে দেখছিলাম এই তেজস্ক্রিয় শতাব্দী, বিপ্লব যেখানে মৃত, মুক্তির সমস্ত আশ্বাসকে যেখানে পেছন থেকে ছুরি মারা হয়েছে| এক প্রত্যাখ্যানের স্বপ্ন এবার| সুবিধাবাদী, পর্যুদস্ত আমি, সোশ্যাল মিডিয়া-বিপ্লবী আমি—অনন্যোপায়--শেল্টা নিলাম কৈশোরে শুরু করা জীবনানন্দের কবিতায়:
“তবু এই পৃথিবীর সব আলো একদিন নিভে গেলে পরে,
পৃথিবীর সব গল্প একদিন ফুরাবে যখন,
মানুষ রবে না আর, রবে শুধু মানুষের স্বপ্ন তখন”
‘সেই মুখ আর আমি’ রয়ে গেলাম শুধু সেই স্বপ্নের ভেতরে| কিন্তু ‘সেই মুখ’ নিয়ে উতরোল আর কমলো কি? কমলো কই? দেবব্রত গাইলেন:
“ছবি মনে আনে আলোতে ও গীতে, যেন জনহীন নদীপথটিতে
কে চলেছে জলে? কলস ভরিতে অলস পায়ে...” কে চলেছে? জলে? কে? ও কে গো?
বৃষ্টির দিনে বড় ঘন হয়ে জমে তুচ্ছ আয়ু| এ ভাঙা জীবন, এ ভাঙা জীবন হায়/আমি, এ ভাঙা মন বলো, কোথা রাখি কার পায়?| কী আছে আর এই জীবনে? ঘুমের ট্যাবলেট আমি গুছিয়ে রেখেছি| অতঃপর জীবনানন্দ ফিরে এলেন আবার:
“পৃথিবীর যত ব্যথা,--বিরোধ,--বাস্তব
হৃদয় ভুলিয়া যায় সব!
যেই ইচ্ছা,--যেই ভালবাসা
খুঁজিয়াছে পৃথিবীর পারে পারে গিয়া,--
স্বপ্নে তাহা সত্য হয়ে উঠেছে ফলিয়া”|

**
ব্যবহৃত উদ্ধৃতিগুলি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, জন লেনন, প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত, ভাস্কর চক্রবর্তী, মৃদুল দাশগুপ্ত, ও অভীক বন্দোপাধ্যায় এর|