সুখটির নাম স্বপ্ন

রুমা মোদক




স্বপ্নটি নিয়ে গভীর নাড়াচাড়া করি হৃদয়ের গহীনে, স্বপ্নটিও নড়েচড়ে, আলতো হাঁটে জড়িয়ে ধরে.....ভীষণ সুখী করে আমাকে। আষাঢ়ের বৃষ্টিধোয়া সকাল আজ একান্ত স্বজন হয়ে উঠে আমার। গাঢ় নীলের বারো হাত শাড়ির সাথে, কাঁধে ঝুলানো কালো ভ্যানেটি আর এর ভিতরে শুকনো রুটির চুপসে ঘুমিয়ে থাকা টিফিনবক্স। কী যে আপন লাগে আজ সবকিছু, কী যে আপন লাগে অফিস বসের অকারণ ধমকে বিধ্বস্ত জীবন ,জাহিদের অকারণ ঝগড়া আর নোংরা ভাষার নর্দমায় নাক-মুখ-দাঁত চেপে যাপন করা জীবন। কী যে আপন লাগে আজ সবকিছু। অনেক, অনেকদিন পর ছকে বাঁধা সহ¯্র দিনের মাঝে আজ এই একটি দিনে জীবনটা বড় নিজের মনে হয় আজ। আজ এই একটি দিন উৎসবের আতশবাজি ছড়িয়ে চারপাশে কেমন ম্লান করে দিয়েছে আমার চারদিকের প্রতিদিনকার সংকীর্ণ অন্ধকারের উৎসমুখগুলো। সব-সবকিছু আজ অন্যরকম হয়ে গেছে শুধু একটা স্বপ্নের জন্য। নাস্তার টেবিলে শুকনো রুটি চায়ে ভেজাতে ভেজাতে আমি স্বপ্নটি নিয়ে গভীর নাড়াচাড়া করি হৃদয়ের গহীনে, স্বপ্নটিও নড়ে চড়ে, আলতো হাঁটে, জড়িয়ে ধরে......., ভীষণ সুখী করে আমাকে।
রিক্সাওয়ালার সাথে আজ ভাড়া নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়, যেমন নাস্তা নিয়ে হয়নি জাহিদের সাথে, আলুভাাজিতে যে আজ লবন দেয় হয়নি সেতো সেই স্বপ্নের ঘোরে। জাহিদ আজ তীর্যক বাক্যে যতোই আহত করতে চেয়েছে আমায়, সুখে মোড়া হৃদয়ের দেয়াল তা স্পর্শই করতে পারেনি আজ। রিক্সাকে আজ অন্যপথে ঘুরতে বলি, অনেক দূর পথ, আমি তো সেই মোঘল বাঈজীর আনারকলি, অসম্ভবের পথ ঘুরাই অবশ্যম্ভাবী নিয়তি যার। একটু বেশি পথ ঘুরেই না হয় আজ অফিস যাবো। আমিতো আসলে আনারকলিই, সম্ভব-অসম্ভবের দেয়াল ভাঙার দুঃসাহসে জীবন্ত কবরে শুয়ে থাকা আনারকলি। আজ হঠাৎ জেগে উঠার আনন্দে অনেক দূর দুর ঘুরে যাবো অফিসে, অনেকটা সময় পার করে......। আজ সব অনিয়ম করবো সব, অনিয়মটাই আজ আমার জীবনে নিয়ম হোক, হোকনা, কেবল আজ, আজই।
বৃষ্টিধোয়া শীতল বাতাস আছড়ে পড়ে চোখে-মুখে। স্বপ্নটা আবারো নড়েচড়ে উঠে বুকের গহীনে,আলতো হাঁটে, জড়িয়ে ধরে--------আমি সযতনে লুকিয়ে রাখি। রিক্সাটা এগিয়ে যায় আষাঢ়ের বৃষ্টি¯স্নাত থমকে থাকা মেঘের ভ্রুকুটি ঠেলে। বৃষ্টির আরাম মাখা অলস ঘুমের শহরটা ঠিকঠাক জাগেনি তখনো। দু একটা রিক্সার টুংটাং পাশ ঘেষে যেনো পিয়ানো আর বিচ্ছিন্ন সাটারিং খোলার ধসধস আওয়াজ খানিকটা গিটারের তার ছুঁয়ে উড়ে যাওয়া অচেনা সুর। মৌসুমী বায়ুর তোড়ে উড়ে যায়, সারারাত ভিজতে থাকা জবুতবু চিপসের প্যাকেট, কী সুখী এই এই ছেঁড়াখোঁড়া সবুজ প্যাকেটটিও, বুঝতে পারি আমারই সুখে। রাস্তার পাশে উঁচু হয়ে থাকা আবর্জনার স্তুপ, কাঁঠালের খোসা, আমের বীচি, মোরগের নাড়িভুড়ি, বাসি ভাত, মাছের কাঁটা আর ফুলে ফেঁপে উঠা মরা বিড়ালটা, কেউ আজ দুর্গন্ধ বিলাতে রাজি নয়। ঘরছেড়ে আড়মোড়া ভাংছে যে বস্তিবাসীর দল, তাদের চোখের মাঝেও কেমন তৃপ্তিময় রাত কাটানোর ছায়া..........। ওরা সবাই কী জেনে গেছে আজ আমি খুব সুখী?
চেয়ারে বসতে না বসতেই মনোয়ার এসে খবর দেয় ডাক পড়েছে বড় সাহেবের রুমে, ঘড়ির দিকে তাকাই পনের মিনিট দেরী, কী যে আছে আজ কপালে........। কবীর সাহেব সামনে আসেন, ইশারা করেন........ খুব চেনা এই ইশারায় অভ্যস্ত আমি। -যান ম্যাডাম, আজতো আবার কনফারেন্স রুমে ডিউটি আপনার। সব প্রস্তুত তো?
মনে পড়ে হ্যাঁ তাইতো, গতকাল ছিলো সাপ্তাহিক ছুটির দিন আর আজ একটা অপূর্ব স্বপ্নের ঘোরে এই প্রয়োজন প্রাত্যহিক দিন দুনিয়া যে ভুলেই ছিলাম পুরো......। এজেণ্ডাগুলোর প্রিন্ট আউট নিয়ে বড় সাহেবের রুমে ঢুকতেই স¤্রাট আকবরের মতোই সফল প্রশাসকের সকল রক্ত জমে তার চোখে, - এ কী পোশাক পরেছেন মারজিয়া আপনাকে নিয়ে আর পারা গেলোনা! জানেন আজ এতো বড় একটা কনফারেন্স। চুপ করে থাকি, বড় সাহেবকে তো আর বলা যায়না আজ এই নেপ্তালিনের গন্ধ মাখা পুরোনো নীল শাড়ি পরার রহস্য! বলে যেতে থাকেন স¤্রাট আকবর বার সুরক্ষিত সিংহাসনে বসে, জানেন আজ এতো কাজ, তারপরও এতো দেরী করলেন, দিনে দিনে আপনার হচ্ছেটা কী........? তিনি বলতেই থাকেন........ আমি হারিয়ে যেতে থাকি সময়ের ভাটির ¯্রােতে, ফেলে আসা স্মৃতির পাহাড়ের পা ধুইয়ে, কাটিয়ে আসা জীবনের বাঁধ ঠেলে ক্রমশ সুখের জোয়ারের টানে.....বিশ বছরের তুখোড় তরুণী আমি, হতদরিদ্র পিতার ঘর আলো করা রাজকন্যার রূপ.......। রূপই কেবল, গুন নেই কিচ্ছুটি......। রাজকন্যার রূপ নিয়ে তাইতো শেষ গন্তব্য আনারকলির সমাধি।
-শুনতে পাচ্ছেন কী বলছি বড় সাহেবের তীব্র ধমকে থতমত খেয়ে যাই হঠাৎ। জ্বী স্যার বলে উত্তর দেয়ার আগেই আবারো ধমকে উঠেন- যান তৈরি হয়ে নিন। তৈরি আর হবো কী? রাজকন্যার রূপ নিয়ে আমি তো তৈরি হয়েই জন্ম নিয়েছি, নইলে যে সার্টিফিকেটের জোর, আপনার অফিসের এই চেয়ারে বসা কিংবা কনফারেন্স রুমে আমার উপস্থিতির অনিবার্যতা কোনটারইতো অধিকার আমার থাকার কথা নয়। মনে মনে বিড়বিড় করতে থাকা আত্মমূল্যায়নগুলো ইচ্ছে করে ঠাস ঠাস ছুঁড়ে দেই তার ধেয়ে আসা কথার তোরে, না সামলে নেই নিজেকে। হৃদয়ের গহীনে স্বপ্নটি নড়েচড়ে উঠে। আলতো হাঁটে, জড়িয়ে ধরে। আমি তীব্র আনন্দে স্থির হই, টলটলে পদ্ম ফোটা দীঘির মতো, আমার অভাব-অনটনময় অসুখী দুর্বিষহ যাপনের এই একটি দিন আজ বড় নিজের, বড় আপন। ক্ষমা করে দেই বড় সাহেবকে, বলুক আজ যতো খুশি.....যা ইচ্ছে.....কিচ্ছু মনে করবো না।
মনোয়ার চায়ের কাপটা রেখে যায় টেবিলে, চুমুক দিতে দিতে শুনতে পাই আরিফ সাহেবের হাঁক- কী ম্যাডাম কয়টায় উঠতে হবে? উত্তর দেবার প্রয়োজন বোধ করি না, মুচকি হাসি। বুঝতে পারি আমার এই সহকর্মীটিই একমাত্র নোংরামীহীন মমতার হাত বাড়িয়েই ডাকে আমাকে। -জাহিদ সাহেবকে বলে এসেছেন তো? এবার আমার মনে পড়ে সত্যিতো জাহিদকে বলে আসা হয়নি, স্বপ্নের ঘোরে উড়তে থাকা প্রজাপতি আজ সব ভুলে বসে আছি। বলি- না তো, আসলেই বলে আসা হয়নি। ভালো কথা মনে করেছেন। আরিফ সাহেব আবার হাঁকেন – তাড়াতাড়ি ফোন দিয়ে বলেন ফিরতে দেরী হবে। পাশের টেবিল থেকে ধমকে উঠেন কবীর সাহেব, -আরিফ সাহেব চুপ করেন তো, যেভাবে হাঁকাচ্ছেন, মনে হচ্ছে অফিস নয়, খেয়াঘাট। প্রয়োজন থাকলে কাছে দিয়ে ফিসফিসিয়ে কথা বলুন, কাজের ডিস্টার্ব হয়। বুঝতে পারি ডিস্টার্ব তো হয় না, হয় হিংসা। নিশ্চিত জানি বড়জোর আর দু চারদিন, আরিফ সাহেবকে জড়িয়ে শুরু হবে মুখোরোচক গল্প, একসাথে লিফটে নামার গল্প হোটেল-বিছানা পর্যন্ত গড়াবে। একান ওকান ফিরে শেষ পর্যন্ত বড় সাহেবের কানে.........., অতঃপর হেডঅফিস থেকে কোনো এক ব্রাঞ্চ অফিসে বদলী। আমার চেয়ার কিন্তু থাকবে অবিচল, যে অবিচলতা বিদেশি ডেলিগেটদের প্রদর্শন করা জরুরী খুব। কতোদিন ভেবেছি সাবধান করবো আরিফ সাহেবকে, জড়তা কাটিয়ে বলা হয়ে উঠেনি। আজ আমার স্বপ্নের সুখ আমাকে সাহসী করে দেয়। ইশারায় কাছে ডাকি আরিফ সাহেবকে। সামনের চেয়ারটায় বসলে তার মুখের সামনে ঝুঁকে আসি, দেখতে পাই টেবিলে টেবিলে অস্বস্তির অস্থিরতা। আরিফ সাহেবকে ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়ে কোন ভনিতা ছাড়াই বলি, -আরিফ সাহেব আমার সাথে বেশি কথা বলবেন না। বুঝতে পারছেন না সবাই আপনাকে ঈর্ষা করছে। বড় সাহেবের কানে গেলে আপনার কপালটা পুড়বে।
আনমনে খেলতে থাকা শিশুর হাতের হঠাৎ ফেটে যাওয়া বেলুনের মতো চুপসে যায় আরিফ সাহেবের চেহারাটা। আমার কথাগুলো কেমন অপমানে বিধ্বস্ত করেছে তাকে বুঝেও না বুঝার ভান করি। অমাবস্যার অন্ধকার মুখে মেখে উঠে যান তিনি, মুচকি হেসে আমি আরিফ সাহেবের ফেলে যাওয়া অপমানবোধের দীর্ঘশ্বাসটির উদ্দেশ্যে মনে মনে বলি, কতোবড় উপকার যে করলাম আজ আপনার, আপনি হয়তো কোনদিন তা বুঝবেন না। কেনো করলাম জানেন আরিফ সাহেব, কেনো আপনার ভুল ভাঙালাম না? কারণ আজ হৃদয়ের গভীরজুড়ে[ এক স্বপ্নের নড়াচড়া, আলতো হাঁটা, জড়িয়ে ধরা।
বড় সাহেবের কলিংবেলের বাজাটা ঠিক আমার নাম ধরেই ডাকে। মনোয়ারের সামনে এসে- আফা স্যার আফনেরে বুলায়- বলার আগেই আমি উঠে দাঁড়াই, সালমা আপা মাউজ টিপে জানিয়ে দেন- লাস্ট আপডেট মেইল করে দিয়েছি। প্রিন্ট আউট নিয়ে যান। যান মারজিয়া যান, আমরা ফুয়েল আর আপনি মশাল, কনফারেন্স উজ্জ্বল করার ভাগ্য তো আপনারই। গায়ে মাখিনা তার কথার বান। আজতো আমি সবাইকে ক্ষমা করে দেবো। আজ যে আমার হৃদয়ের গভীরে একটি স্বপ্নের নড়াচড়া, আলতো হাঁটা, জড়িয়ে ধরা.......।
বলেন সালমা আপা বলেন, আজ যা ইচ্ছে বলেন। কনফারেন্স রুমের জাপটে ধরা এসির ঠান্ডা বাতাস আষ্টেপৃষ্টে মেখে বসে পরি নির্ধারিত টেবিলটিতে। টাই-প্যান্ট-সু পরা ভদ্রলোকেরা সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে আলোচনায় তুমুল মগ্ন হয়ে পড়ে আর আড়চোখে আমার সৌন্দর্য গলাধকরণ করে। ল্যাপটপে কী-নোট নিতে নিতে আমি ঠিক টের পাই-যেভাবে বিড়াল টের পায় মাছের গন্ধ। খুব রাগ হতো অন্যসময়, কেনো এই সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিগুলোর ব্যক্তিত্ব এভাবে নগ্ন হোঁচট খাবে আমার বাহ্যিক রূপে? আজ আর রাগ হয় না। উপেক্ষার এক অসম্ভব শক্তিতে চারপাশে সুরক্ষার দেয়াল তুলে দেই। আমি আজ তোমরা যতো খুশি দেখো আমাকে, নোংরা চোখ দিয়ে দেখ, কামুক দৃষ্টি দিয়ে দেখো। আজ কিছুই স্পর্শ করবে না আমাকে। আজ আমাকে পৃথিবীর সব নোংরামী থেকে আড়াল করে আছে একটা স্বপ্ন......খুব প্রিয় একটা স্বপ্ন। এজেন্ডার তর্ক-বিতর্ক তুঙ্গে উঠে.......ভারী বাতাস আমাকে উড়িয়ে নিয়ে চলে সুউচ্চ পাহাড় চূড়ো থেকে নীচের উপত্যকায়......ঘাসের সবুজ কার্পেটে স্মৃতির ঘরদুয়ার.......। রুমী, লুনা নন্দিতা তহুরা হৈচৈ করে। আফসানাদের ডাইনিং টেবিলে খালাম্মার সাজিয়ে রাখা সারি সারি আচারের বয়াম। আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়ি, জলপাই কাড়াকাড়ি করে বাড়ি মাথায় তুলি। বিস্মিত দৃষ্টি নিয়ে সামনে দাঁড়ায় রুম্মান। আফসানার বড় ভাই, ধমকে উঠেন- এ্যাই, এ্যাই বেয়াড়া মেয়েগুলা, তোমরা কী যেখানে যাও, সেটাকেই নিজের বাসাবাড়ি বানিয়ে ফেলো? দৌড়ে আসেন আফসানার আম্মা- যা বাবা যা, ওরা বেশিক্ষণ থাকবে না। রুম্মান আরো ক্ষেপে উঠে- আমি পড়তে পারছি না। তীব্র রোষময় অবহেলা ছুঁড়ে দিয়ে রুম্মান সাহেব চলে গেলে প্রথমবার আমার রূপের প্রতি অবজ্ঞায় অস্থির হয়ে উঠি আমি। প্রচন্ড জিদ নিয়ে ব্যাঘাত ঘটাই তার পড়ায়। দেখিয়ে দেই কতোটা মূল্যবান তার বুয়েটের বইগুলো আমার চেয়ে! ইঞ্জিনিয়ার হওয়া মাথায় উঠে রুম্মানের। আমাদের দিন কাটে পার্কে-রেস্টুরেন্টে। জেদ ধরে অর্জন করা মানুষটি কেমন স্বপ্নের মানুষ হয়ে উঠে আমার........, ঠিক যেমন চাই আমি যেমন করে চাই.........। আমার বাপের সদাগরি অফিসের পিয়নের সামাজিক অবস্থান আর রুম্মানের বাপের সে অফিসের বড়কর্তার সামাজিক অবস্থানের লক্ষ যোজন দূরত্ব আমরা তুচ্ছ করি তীব্র প্রেমের উন্মাদনায়-------। আনারকলি আর সেলিম ভুলে যায় সিংহাসন আর বাঈজী ঘরের সমান্তরাল পথ। হুঁশ হয় তখন, যখন আকবর জীবন্ত আমার চারপাশে কবর তুলে দিয়ে বাদশাহজাদাকে নিয়ে যায় নিরাপদ দূরত্বে, দূরদেশে---------।
থ্যাংকস অল- বলে বড় সাহেব যখন উঠে দাঁড়ান, তখন ঘড়িতে রাত ৯টা। সারাদিনের সুখময় ক্লান্তি নিয়ে বড় সাহেবের প্রাডোতে উঠি তখন মনে পড়ে জাহিদের নোংরা চেহারাটা। ঠিক তাই, দরজা খুলেই অশ্লীল আক্রমনের ঝাঁপিটা খুলে দেয় জাহিদ। এটা ভদ্রলোকের বাড়ি। ভদ্রলোকের বউরা কোনদিন এতো রাতে বাড়ি ফেরে? বলতেই থাকে জাহিদ- সাপের মতো আক্রমনগুলো পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ছোবল দিতে চায় আমাকে। পাত্তা দেই না, নীল শাড়িটা সযতেœ খুলে বারান্দার দড়িতে মেলে দিতে কানে ছোবল দেয় জাহিদের অজগর- কতো পেলে আজকের খেপে? মূহুর্তে আগুন ধরে যায় স্নায়ুতে। সারাদিন স্বপ্নের ঘোরে অবশ হয়ে থাকা স্নায়ুতে..........। এবার উত্তর দিতেই হয়। বলতেই হয়, এই খেপের টাকাটা আসে বলেই সংসারের চাকাটা সচল এখনো। তখনই গহীন হৃদয়জুড়ে আবার স্বপ্নটি নড়েচড়ে উঠে......., আলতো হাঁটে..........। আধো আলো আধো আঁধারে রুম্মান আমাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নীল শাড়িটি পরায়, এবড়ো থেবড়ো কুচি, বাম কাঁধের আঁচল ডানে পেঁচিয়ে........., ওর হাতের উষ্ণতা আগ্নেয়গিরির লাভা ছড়িয়ে যায় আমার শরীরের ভাঁজে ভাঁজে, সেই ভাঁজ আবার খুলে রুম্মান.........নীল শাড়ি পড়ে থাকে মেঝেতে লজ্জায় আনম্র লাল আভা মেখে...........। ক্ষমা করে দেই জাহিদকে। মনে মনে বলি, বোকা জাহিদ, যে বড় সাহেবকে নিয়ে ইংগিত তোমার, রাত করে ঘরে ফেরাকে সন্দেহ, সে তুমি জানোই না তোমার ভয় পাওয়া উচিত আমার হৃদয়ের গহীনতাকে, যেখানে বাস করে আমার স্বপ্নের মানুষ। বাইরের পৃথিবীটা তোমার সাথে বটে, হৃদয়ের গহীনে আমর দিনরাত তার সাথে, কাল রাতে সে স্বপ্নে এসেছে আমার.........জাগিয়েছে ঘুম থেকে....নীল শাড়ির ভাঁজ খুলেছে....... যে ভাঁজ কোনদিন তুমি খুলতে পারোনি, পারবেও না কোনদিন............