ঘোরদালান

সুমী সিকানদার



প্রতিদিন একটা দুধসাদা দালানের সামনে এসেই স্বপ্নটা শেষ হয়ে যায়। পরপর তিন দিন এমন হলো। যেন সব কিছু শেষ। যেন সবটুকু জল পড়ে গেছে কল থেকে, থেমে গেছে টপটপ বুকভাঙ্গা শব্দ।
আমি প্রাণপনে চিৎকার করতে চাই গলায় আওয়াজ ফোটেনা। দেখতে চাই দেখা যায় না আর কিছুই। কাকে যেন পাশে চেয়েছিলাম , সে আচমকা কোন দু;সংবাদে রওনা করেছে বাতাসের সিদ্ধান্তের আগেই। তখন কোন শব্দের কিম্বা ছন্দের ব্যবহার ছিলো না।

সিদ্ধেশ্বরীর খোলা দশকাঠা সুবিশাল মাঠের মাঝে টুকরো মতো খেলনাবাড়ি। যেখানে শুধু পলিশ করে কাটা কচি সবুজ ঘাস অভ্যর্থনার আবীর করে নিয়ে যায় ।
মাঠে সাদা রঙের নারীর ইতস্ততঃ ছড়ানো কিছু মূর্তি দূর থেকেই দেখেছি। ঠিক মাঝে জলফোয়ারাও, কিন্তু দিনে কোন ছটফটে পানি তাতে নাচে না।দিনের আলোয় পানি যেন অশরীরী।

আমার কখনো স্বপ্নের সেই বাড়িটার ভেতরে কিম্বা দোতালায় যাওয়া হয় না। আমি যে খুব অপেক্ষায় থাকি তাও না। কিন্তু পরের দিন যখন আবার একই যায়গায় এসে একই স্বপ্ন কেউ রিমোট দিয়ে ফ্রিজ করে দেয় ,তখন বাকিটুকু দেখার আপ্রাণ আকাংক্ষায় আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।

সকালে উঠে স্বপ্নের আর কিছু মনে নেই এক মগ চায়ে বিস্তর মুড়ি চুবিয়ে চামুচে করে খাচ্ছি। আমার স্ফূর্তিযুক্ত মেজাজ দেখে তুমি খুশী ।
''কি যে করো রাত দুপুরে তুমি। কি হয়েছিলো কাল? আমাকেও তো ধরতে দাও না।''
''মনে নেই তো। তুমি ছিলে পাশে ? তাহলে যে এত ডাকতে চাইলাম ,গলা দিয়ে কোন আওয়াজ ফুটলোনা । তুমি কিছু টের পাওনি?''
''আমি ছিলাম না তো কে তোমার ঘুমের মধ্যের বকবকগুলো শুনলো বলো তো।
আধারাত জুড়ে এই অবস্থা । মাঝখান দিয়ে আমার ঘুম শেষ।
সকালে তো অফিস থাকে বউ ‘’।

বউ নই। তবু খুব মুডে থাকলে বউ বলে রজত । মুখে রাগ হই, আসলে ভাল লাগে। । একসাথে এক বাড়িতেই আছি , বিয়ের সিদ্ধান্ত নেইনি কেউই। দেখা যাক।

ডিজাইনের রিভিউ নিয়ে বসলাম । কাল প্রেজেন্টেশন। কিছুক্ষণ বাদে মিমুরা আসবে। আজো রাত জাগা পড়বে মনে হচ্ছে। তবু ভাল কাজটা শেষ হোক। এই ডিজাইন আর ঘুমের ভেতরে সেঁধিয়ে থাকা স্বপ্নের জবাব খুঁজে ফেলতে হবে তুরন্ত।
আচ্ছা, এই বারের এই দালানের মডেলটা কোথায় যেন দেখেছি মনে হচ্ছে। ভাঙ্গা ভাঙ্গা মনে আসছে পুরোটা না।‘ তুমি কো্ন ভাঙ্গনের পথে এলে’.........গুনগুন করি একা বাসায় এপ্লিক করা টিকোজির সামনে বসে বসে। চা তুমি সারাজীবন গরম থাকো ।

শাখারিপট্টিতে গেলেই আমার খুব শাখা পলা কিনতে ইচ্ছে হয়।আমি নিজেও কিনি মৌয়ের জন্যও নিয়ে আসি। মৌ আমার খেলাতো বোন ।সারা উঠোন পাঁচিল ,দেয়া্ল,‌ কার্নিশ ,সানসেট আমাদের পায়ে পায়ের ফোস্কার সাক্ষি। আমাদের পলাতকা শৈশব ভেবেই ভেবেই দুই জোড়া পলা কিনি রক্তলাল।


পুরোনো ঢাকার অনেক বিল্ডিং দেখা হলো কিছুদিন আগে। প্রায় সব গুলোর চেহারা সুরত পোকা খাওয়া হয়ে গেছে। পাঁচিলের গায়ে শ্যওলা ধরা পিচ্ছিল। হঠাৎ অনেক উঁচুতে ফিনফিনে গাছ। হাওয়ায় সে ওড়ে না গম্ভীর , যেন আমি দেখে ফেলবো পাছে হাসি লুকায় তীক্ষ্ম সবুজ।


আগে হঠাৎ এত উপরে পাঁচিলের গা ঘেঁষে গাছ দেখে ভয় পেতাম। একা আওয়াজহীন এসব পুরোনো ম্লান টেরাকোটায় হুমড়ে থাকে মীনের দাড়িপাল্লা। তারা পাপ পুণ্যের ভাগ বাটোয়ারা করতে থাকে । কখনো পাপের ভাগ বেড়ে গেলে অন্য পাল্লা থেকে পুণ্য মিলিয়ে সমান করে আঁকে নকশা দেয়াল। আমি নিশ্চিন্ত কুম্ভমন নিয়ে এদের গায়ে গায়ে শিস হয়ে ঘুরে বেড়াই। আচ্ছা কুম্ভ জাতিকাদের নাকি খুব স্বপ্নে ডোবা চোখ হয়?


আলমাস ভিলার সদর দরজায় লোকজন বলতে কেয়ারটেকার এক জন বুড়োমতো চাচা মিয়া । আমাদের কাজের সময়টাকে আমাদের সাথে সাথেই ঘুরতেন। চা’ও নিয়ে আসতেন ফ্লাক্স ভরে। তিন চার জন মিলে আমরা এই বাড়িতে ঢুকে ঢুকে নানা রকম মাপজোক আর বিভিন্ন নোটস টুকে নিচ্ছি। ফাঁকে ফাঁকে চলছে গান । মিহিকার মাথায় শুধু ছবি। সে ভাবে এরকম একটা নিলামে ওঠা বাড়িতে সে ছবি বানাবে। সে ছবিতে নিজে অভিনয় করবে না নেপথ্যে থাকবে। আমাদের কে টিকিট কেটে সেই ছবি দেখতেই হবে।


বিশাল পুরানা জামানা বাড়ী। হয়তো ঘুরতে ঘুরতে দেখা যেত একেক জন একেকদিকে একেক ঘরে ঢুকে গেছে। কেউ কেউ টানাবারান্দার ঐ প্রান্তে চলে গেছে তাকে কাগজের চোঙ্গা বানিয়ে সুর করে করে ডাকা হচ্ছে ''সোমাআআআআআভো'' । আচ্ছা সোমাভো তো এখানে ছিলো না। তার নাম ধরে কে ডাকলো ? সোমাভো তো এখানে নেই।

সে তো আমাদের কলেজেও ছিলোনা। ইন্টারমিডিয়েট করেছিলো আনন্দ নিকেতন কলেজে থেকে। একবার গরমের ছুটিতে বাড়ি যেতে গিয়ে লঞ্চ ডুবে সোম তলিয়ে গেছে বলে শোনা যায়। তাকে আর কেউ পায়নি। জীবিত বা মৃত সোমাভকে এই বারান্দায় আজ এত বছর পর চোঙ্গায় মুখ রেখে কে ডেকে উঠলো? বৃষ্টির ঝাপ্টায় বেজে ওঠে ছোট ছোট কবিতা। তারা আমাদের নাম ধরে ডাকে ।


পেইন্ট গুলো চকের মত হয়ে গেছে ,জন্মের সব মায়া কেটে তারা উঠে আসছে।দরজার স্ক্রুগুলো জং ধরা। ধাক্কা দিলে প্রবল শব্দে আপত্তি করে তারা, যেন কেন তোমরা এতদিন পর আমাদের খুলতে এসেছো। দেখছো না মরচে পড়ে আছি তাবৎ মায়াসমেত। কাঠগুলোতে ফাঙ্গাসের অনন্ত আস্থা। ফাঙ্গাসের দোষ নেই। নিজেদের মধ্যেও আজ অনাস্থার নোনা ধরেছে টের পাই। নইলে এই যে দিনের পর দিন একসাথে থাকি। তবু কেউ কাউকে সম্পর্কের দাবীটা অধিকারের কাগজটা খামে ভরে দিতে চাই না কেন? এসব ভাবিনা। ভাবলেই জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ে বুনো গাছের জটলা । বুনো গাছ ফিউশন জানে।

লে আউট আঁকি মনে মনে। আরেক বার এরকম দালান দেখতে চলে গেছিলাম রাজেন্দ্রপুরে। সাথে শিক্ষকরা। স্টাডি ট্যুর না বলে লাফিং ট্যুর বললে ঠিক হয়। র’দেভ্যুর স্টিকার দেয়া সব ম্যট ফিনিসিং বিল্ডিং। পুরোনো মনে না হলেও এগুলোকে অতি কারিশমার সাথে পুরোনো বানিয়ে রেখে দেওয়া হয়েছিলো।

সেখানে কোথা থেকে যেন শব্দ আসতো। যেন খালি কয়েকটা কাচের বোতল গড়িয়ে গড়িয়ে এ ওর গায়ে লেগে লেগে শব্দ হতো টুংটাং। আমরা এ ওর নাম ধরে ডাকতাম শুধু শুধু । সে নাম ইকো হয়ে দেয়ালে দেয়ালে বাড়ি খেতো কৌতুক আর উদাসীনতায়। একা থাকার নেশার ঘোর কাটলো বিশাল দালানের।


আজ ঘরগুছিয়ে খাবার আয়োজন করছি। সহকারি বুয়া মাংসের কষা আর সজনে ডাল রেঁধে আগে আগে চলে গেছে। তাদের এলাকায় নাকি স্মার্ট কার্ড দেবে আজ । কি করা যায় ভাবতে ভাবতে কতগুলো টমেট কেটে নিয়ে সামান্য পানি অল্প মশলা দিয়ে চূলোয় দিয়ে টিভি খুলে বসলাম । এটা হলো টমেটোর টক ।মাঝে মাঝে রজতের জন্য করি। অনেক ভালো মানুষটার জন্য। যত যাই হোক দিন শেষে সেই আমার। মেথি কারিপাত্তা দিয়ে ফোঁড়ন দিতে হয়। খুব ঝাঁঝালো ফোঁড়ন তার।


সারাদিনের ক্লান্তি শেষে অনেক ঘুম ধরেছে আজ। রজতের জন্য মেসেজ রেখে ঘুমিয়ে পড়েছি। একেবারে সকালে উঠবো ।মাঝে নো জাগা।

ঘুমাতে ঘুমাতেই ফের সেই সিদ্ধেশরীর দালানে চলে এসেছে । সারামাঠে চোখে ধাঁধা লাগা সবুজ। যে আমার হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে তার মুখ কিছুতেই দেখতে পাচ্ছি না । শুধু মাটিতে পড়া উল্কার ঘ্রাণ পাচ্ছি। এত বছরের অস্বস্তি ভেঙ্গে দিয়ে তর তর সিড়ি বেয়ে উপরে নিয়ে চলেছে আমাকে। বিরহ ভাঙ্গা সিড়ি। তবে কি আজ সোমাভো এলো আমার শহরে?মুখ তো দেখা যাচ্ছে না।কতদূর নিয়ে যেতে পারে স্বপ্ন?

দোতালায় নিয়েই ব্যস্ত হয়ে গেছে সে ।,লং প্লে তে দিচ্ছে ওস্তাদ রশিদ খান। আমাকে নাকি না বলা কথা, দিনের পর দিন না বলে বলে জমাট হয়ে আছে । আজ তাকে বলবে।একটুও ক্লান্তি নেই।
আমাদের নামের মিল সোমাভো খুব এনজয় করতো। দুজনের মিলিত নামের একটা খাতা ছিলো তার। তাকে খুব সুন্দর হাতের লেখায় ক’টা লাইন লেখা। ‘’যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতা্র খাতা।‘’
চট করে সব মনে পরে গেছে আমার। এতোটা খেয়াল তো করিনি । যে বুকের ভেতর আস্ত নদী রেখে ঘুরে ঘুরে বেড়ায়। মাঝে মাঝে কল কল করে করিডোরে মিলিয়ে যায় হাত নাড়ে লুকানো অপরাহ্ণের মতো , আজ তার চোখ থেকে নিজের চোখ ফেরাতে পারছিনা।

আমি খুব কাছে চলে এসেছি। স্বপ্নে মানুষ ঝাঁপ দিয়ে চলে আসে নিজের কাছে ।নিজের চেয়ে প্রিয় কারো কাছে। সোমাভো কি বলতে চায় তা যেন বুঝতে পারছি। সে আর শোনার দরকার নেই।
কিন্তু সে শুধু আমাকে পড়ে শোনাচ্ছে অহমিকাহীন অতলস্পর্শী জার্নাল। , যা সে আমাকে ভেবে ভেবে লিখেছে ঘুমের আগে, পথে যেতে যেতে ফিরে ফিরে শিশুদের হাসি দেখতে দেখতে। এক শিশুর হাসি তাকে ঘুমের আগ অব্দি হাসিমুখে জাগিয়ে রাখতে জানে।তার রাত আসে বেলফুল ঘ্রাণে।

আমি চুপ করে তার নরম মুখ দেখি। আমারই প্রেমে সে কবে পড়েছে আমারই বিমানবন্দরের পাখি। তার সে প্রেমকেও স্বপ্নে দেখবার আছে।
‘সুমিতা তুমি বসো চা করে আনি। ‘
‘এটা কার বাড়ি এত বড়? ‘
‘এখন আমাদের।‘
‘সোমাভো তুমি কেন এখানে আমাকে এনেছো। আমার যে .........’
‘আচ্ছা আর আনবোনা। আজ একদিন শুধু । ‘

সারাবাড়িতে তেমন কোন আসবাব নেই। মাঝখানে সমুদ্রের মতো খাটপাতা। আর গান চলছে মৃদু লয়ে। হাওয়ারা বেশ মিশুক। চুল উড়িয়ে দিলো। যেন বলছে একটু পরেই বৃষ্টি আসবে সাজ মুছে যাবে। এ মূহুর্তই অতীতের ভবিষ্যতের আর বর্তমানের মিলিত মুহূর্ত।

আমার কেন যেন ভয় লাগছে না। একা বাড়িতে একা সোমাভো আমার ভয় লাগছে না।তার চোখ কী যে শান্ত ছিলো। পাড়ার সহপাঠীদের সাথে তার বনিমনা ছিলনা। সে চুপচাপ , সহজে মিশতে চাইতো না। সবাই তার মেয়েমেয়ে চেহারা পাতলা ঠোঁট এসব নিয়ে হাসি ঠাট্টা করতো। শুধু বিকেলে আকাশ ময়লা হবার কালে লাজুক ফরসা তার মুখটা দেখতাম। ঠিকই আমাকে খুঁজে চলে গেছে সন্ধ্যাতারার মাত্রাবৃত্তে।

সে চা নিয়ে এলো। চা’ টা আমার হাতে না দিয়ে পাশের সাইড টেবিলে রাখলো। মুহুর্তেই কিছু বুঝতে না দিয়েই আমাকে জড়িয়ে ধরে গভীর চুমু । ছাড়াতে চেয়েও আমি কখন যেন তাকে জড়িয়ে ধরেছি। আমি কখন যেন ডুবেছি যমুনায় সাঁতরাতে না পেরে। আমার আর কোন গান কোন শব্দ কোন দিনরাত কোন পাখি কিচ্ছু মনে আসেনি তখন। এক জেতাবাজিহারা কন্ঠ আমার সারা বেলা মেখে থাকলো। সোম তেমন কিছু আজ বলেনি। আজ সে বাড়ি যাবে।

আর তার বাড়ি ফেরা হয়নি । দূরপাল্লার বিমান উড়ে গেছে গাঢ সবুজ বনে। হাত নাড়তে নাড়তে সে মিশে গেছে অচেনা মধুগন্ধে। না শোনা কথা সমেত তাকে আর পাইনি।নৃত্যরত সাঁওতাল মেয়েদের মতো জবরদস্তি ঘর ছাড়া হয়েছে যেন সে।

দেহটুকু ফিরে আসেনি কারো নজরে। আসেনি তার চোখ, মায়া মন্দ্রতা। আমার কাছে কিছুদিন দিন ছিলো। আমার কাছে মাত্র কিছু দিন ছিলো সোমাভোর মাতাল শরীরের বুনোমায়া। মাত্র কিছুদিন পরে সে ছেড়ে গেলো নির্বিকার । আমি দেখিনি সে মুখ কার মতো ছিলো আমার নাকি সোমাভের । নাকি আমাদের মিলিত নাম সেই খাতায় লেখা ‘সুমিতাভো’র মতো । অপরিণত বয়সের ভুল থাকেনা পরিণত সময়ে। সেও ছিলোনা। শুধু ভীরু আমি বদলে গেছিলাম সময়ে কিম্বা দু;সময়ে।

রজতের জন্য বসে আছি। আমার ছুটি শুরু। রজত বলে দিয়েছে আমার যেন হাতে কাজ না থাকে, আমরা নাটক দেখতে যাবো। আমি লিলিফুলে নীলশাড়িতে বসে আছি। আমি জানি রজত আজ আমাকে দেখে চমকে যাবে। কারন আমি ওয়েস্টার্ন পরি সব সময়।

আজ জানিনা কেন সোমাভোর চোখে সেজেছি আমি । তার চলে যাবার পর রজত গুছিয়ে নিয়েছে আমাকে।আর আমি মন গুছিয়ে নিয়েছি নাটকের চরিত্রে।
নাটক দেখতে দেখতে বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে রজত।
‘’নাটক দেখো তো। বার বার তাকাচ্ছো।‘’
‘’তোমাকে কী যে সুন্দর দেখাচ্ছে।‘’
‘’আচ্ছা এবার চলো নাটক দেখি।‘’
‘’তোমার কাল খুব ভাল ঘুম হয়েছে গো? একটু কাঁদোনি, শ্বাসকষ্ট হয়নি ,কেঁপেও ওঠোনি।
আমি হাসলাম।আর হবেনা ওরকম। আর আসবে না সেই ধোঁয়ারং দালান ।যা দেখার বাকি ছিলো সেটুকু দেখা হয়ে গেছে। ভেবে নিয়েছি অন্যের দৈগন্তিক ভাবনা।নাটকের নেপথ্য মিউজিকে মন দিলাম। মঞ্চে কালো বর্ষা নেমেছে। যেন অতিদূর সেই প্লাবন সময়কে এঁকে দেখাচ্ছে বিনাশ্রমের শ্রমণা। চলে যাবার পর একা দিন বদলায় ।

নাটক শেষের পথে।‘’সোনা বন্ধুরে,আমি তোমার নাম লইয়া কান্দি। ‘’ আহা কী দরদিয়া কন্ঠ। কে গায়? চোখের জলে ডুবতে ডুবতে আমি ফিসফিস করি।আমি কাঁদছি না সোমাভো তোমার নামে । তোমার নির্জন কথাগুলো শেষরাতের স্বপ্নে আমি বুঝে নিয়েছি।