স্বপ্নাঞ্চল

সুদীপ চট্টোপাধ্যায়



স্বপ্ন। যা তোমার একার। যার দ্বিতীয় কোনও দর্শক নেই। মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে? এ নিয়ে যেমন আছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, তেমনই আছে লোকায়ত ধারণা।। মনোবিজ্ঞান তার নিজের মতো করে স্বপ্নের কার্যকারণ নিয়ে ভেবেছে, আবার প্রত্যাশি মানুষ স্বপ্নের মানে খুঁজেছে তার স্বার্থানুসারে। তাই ঘুমিয়ে-দেখা-স্বপ্ন যেমন আমাদের দিয়েছে আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ ভালোবাসা, তেমনই জেগে-দেখা-স্বপ্ন দিয়েছে লক্ষ্য পূরণের জেদ ও অনুপ্রেরণা। এখন, এই জেগে-দেখা-স্বপ্ন মানুষ একাই দেখে বা দেখতে পারে বলেই সমস্ত প্রাণীকে ছাড়িয়ে নিজেকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পেরেছে। কিন্তু ঘুমিয়ে- দেখা-স্বপ্ন কি মানুষ একাই দেখে, আর কোনও প্রাণী দেখে না? গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল তাঁর ‘দ্য হিস্ট্রি অফ অ্যানিমেলস’-এ লেখেন, শুধু মানুষ নয়, ঘোড়া, কুকুর, ষাঁড়, ভেড়া, ছাগলসহ সমস্ত সন্তানপ্রসবকারী চতুষ্পদই নাকি স্বপ্ন দেখে এবং ঘুমের মধ্যে আওয়াজ করে তার জানান দেয়। কিন্তু সে তো অনেক পুরোনো কথা, পেরিয়ে গেছে হাজার হাজার বছর। তাঁর ধারণার সত্যতা কতটুকু? এখনকার বিজ্ঞান কী বলে এ বিষয়ে? স্বপ্ন দেখার অধিকার কি শুধু একাই আমাদের, মনুষ্যেতর প্রাণীরা কি এ বিলাসিতা থেকেও বঞ্চিত!
প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞানীরা দুটি পন্থা অবলম্বন করে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। প্রথমত, ঘুমের বিভিন্ন স্তরে পশুদের শারীরিকক ক্রিয়াকলাপ; দ্বিতীয়ত, তাদের ঘুমন্ত মস্তিষ্ক এবং আমাদের ঘুমন্ত মস্তষ্কের কাজের সাযুজ্য পর্যবেক্ষণ করা। বিংশ শতকের ষাটের দশক থেকে এই নিয়ে গবেষণা গতি পায় এবং সে ক্ষেত্রে মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর ঘুমের সময় র‌্যাপিড আই মুভ্‌মেন্ট(REM) এক বিষেষ ভূমিকা পালন করে। একবিংশশতকের বিজ্ঞানীরা ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণীর মস্তিষ্ককোষের তড়িৎ এবং রাসায়নিক ক্রিয়াকলাপ পর্যবেক্ষণ করে স্বপ্নের কার্যকারণের গোড়ায় পৌঁছতে চাইছেন। এতসব পরীক্ষানিরীক্ষা থেকে মানুষ ব্যতীত অপরাপর পশুদের স্বপ্নদেখার অধিকার অনেকটাই স্বীকৃতি পেয়েছে। আবার সেই ঊনবিংশ শতকের শেষে(১৮৯৯)ফ্রয়েড সাহেবের স্বপ্ন সংক্রান্ত বই, ‘দ্য ইন্টারপ্রিটেশন অফ ড্রিমস’, মানুষকে জানিয়েছিল স্বপ্ন কীভাবে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে আমাদের মনস্তত্ত্বের সাথে, যদিও বর্তমান মনোবিজ্ঞানীদের দ্বারা যার বেশিরভাগ ব্যাখ্যাই প্রত্যাখ্যাত, তথাপি স্বপ্নের সাথে মনস্তত্ত্বকে সম্পর্কভুক্ত করার প্রাথমিক বিজ্ঞানসম্মত সলতেটি যে তিনিই পাকিয়েছিলেন তা বলা যেতেই পারে।
এতো গেল স্বপ্ন নিয়ে বিজ্ঞানের ময়নাতদন্ত। কিন্তু মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার জন্যও স্বপ্নের ভূমিকা অপিরিসীম। মানুষের সুকুমার বৃত্তিগুলির সাথে স্বপ্ন অঙ্গাঙ্গী জড়িত। জড়িত মানুষের ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়ার সাথে। স্বপ্ন আমাদের অনেকের থেকে সরিয়ে এনে একটা নিজস্ব স্পেস দেয়। যা শুধু আমার একার, যার আর কোনও দ্বিতীয় অংশীদার নেই। বাস্তবে আমার দেখা বিভিন্ন ব্যক্তি বস্তু ঘটনা থেকে উপাদান সংগ্রহ করে স্বপ্ন তার নিজের মতো করে সাজিয়ে তোলে, নিজস্ব নিয়মে। স্বভাবতই টাইম স্পেস মিলেমিশে এক অদ্ভুত জগতের সৃষ্টি হয়। না থাকে ঘটনা পরম্পরা, না থাকে বাস্তবকে মেনে নেওয়ার দায়। আবার কখনও কখনও বাস্তবে প্রত্যক্ষ করা কোনও অভূতপূর্ভ বা হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রায় অপরিবর্তীত রূপে স্বপ্নে দেখা দেয় একবার কিংবা একাধিকবার। হ্যাঁ, তেমনই এক অভূতপূর্ব ঘটনার কথা মনে পড়ছে। তখন ক্লাস ওয়ানে পড়ি। ফিরছি মামাবাড়ি থেকে, বাসে। পিচের রাস্তা, কখনও-বা লালমাটি।আমি জানলার ধারে বসে। দু-দিকে শালসেগুনের গভীর জঙ্গল। তারই ফাঁকে দেখলাম একটা ছোট্ট এককামরার বাড়ি, মাটির। টালির চাল। আর সেই বাড়ির দাওয়ায় একজন মধ্যবয়স্ক মানুষ বসে আছেন, পা মাটিতে। পরনে লুঙি আর স্যান্ডো গেঞ্জি। আর দেখলাম অজস্র পাখি তাকে ঘিরে উড়ে বেড়াচ্ছে, কাঁধে বসছে মাথায় বসছে। ব্যস, এইটুকু, কয়েক সেকেন্ডের দেখা। কী পাখি মনে নেই, তবে বেশিরভাগই ছিল সবুজ, টিয়ার মতো, টিয়াই কি! অথচ এমন একটা দৃশ্য দেখার পর বাসের ভেতর কোনও গুঞ্জন শুনিনি, দেখিনি কারো কৌতূহল। ঘটনার আতিশয্যে এতটাই মোহিত ছিলাম যে পাশে বসে থাকা মাকেও দেখাইনি সেই দৃশ্য। তবে পরে সেই ঘটনার কথা মা-বাবাকে বলেছিলাম, যদিও তাঁরা তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাননি। পরবর্তী সময়ে যখন ওই পথে আবার গেছি বা ফিরেছি তখনও দেখিনি সেই বাড়ি, ফলে আমার বার বার মনে হয়েছে আসলে তা স্বপ্ন ছিল। এরকম ঘটনা আরও একটি মনে পড়ছে, তখন কিছুটা বড় ক্লাস সিক্স-সেভেনে পড়ি হয়তো, বিকেলে খেলতে গেছি একটা নদীর চড়ায়, চারিদিকে বালি আর বালি, তারই মাঝে খুব বড়ো করে আয়তক্ষেত্রের মতো একটা অংশ খুব গভীর করে কাটা, তার ভেতরে আমরা সবাই নেমেছি ব্যাটবলউইকেট হাতে, খেলা হচ্ছে। সবাই ব্যাট করছে, বল করছে, অথচ আমি শুধুই ফিল্ডিং, যদিও একবারের জন্যও বল আমার কাছে আসছে না। আমাকে বাকিরা বলছে তোর চান্স পরে, সব শষে, এরাও সব আমার বয়সি, অথচ এদের কাউকেই আমি চিনি না, এদিকে সন্ধে নামছে, খাদ থেকে ওপরে তাকিয়ে দেখছি আকাশ লাল হচ্ছে। বাকিরা নির্বিকার খেলে যাচ্ছে, কোনও চিন্তা নেই। আর আমি ভাবছি এই খাদ থেকে উঠে বাড়ি ফিরব কীভাবে, আবার কখনও ভাবছি, চিন্তা কি ওরা তো খেলছে, যাবার সময় আমাকে ঠিক নিয়ে যাবে, তার চেয়ে অপেক্ষা করি, যদি আমাকে ব্যাট করতে ডাকে। এটিও নির্ঘাত স্বপ্ন ছিল, যদিও এই দুটি ঘটনাকে আমার কখনই স্বপ্ন বলতে ইচ্ছে করে না। আরও একটি ঘটনার কথা এই সুত্রে বলতে হয় যা কয়েক বছর আগের ঘটনা এবং নির্ভেজাল বাস্তব হলেও স্বপ্নবৎ, এবং এই ঘটনার সাক্ষী আমার একবন্ধু, বিপ্লব। আমরা দুই বন্ধু বাইকে করে বাঁকুড়া শহর থেকে প্রায় পয়তাল্লিশ কিলোমিটার দূরে সিমলাপাল নামক এক জায়গায় গিয়েছি বইমেলা দেখতে। বাঁকুড়া জেলাটি বিপ্লব তার হাতের তালুর মতো চেনে ফলে কোনও অসুবিধে নেই। সেখানে কিছু পরিচিত মানুষের সাথে গল্প করে মেলা দেখে ফিরতে রাত্রি হয়ে যায়। যথারীতি দুদিকে শাল সেগুনের জঙ্গল আর সামনে অন্ধকার পিচের রাস্তা, বাইকের আলোয় যতটুকু আলোকিত। মাঝে মাঝে দুএকটা লরি। এমন সময় ঝেঁপে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুতসহ। এমতাবস্থায় কোথায় আশ্রয় নেব খুঁজতে খুঁজতে দেখি জঙ্গলের ভেতর থেকে আলো আসছে, মৃদুমন্দ আলো। আমার তাকেই অনুসরণ করে দেখি একটি ছোট্ট কুঁড়ে ঘর, তার সামনে উঁচু দাওয়া যা অনেকটা ইংরাজি এল আকৃতির। তার একদিকে একটি দড়ির খাট, দেয়ালে টাঙানো একটি জ্বলন্ত হারিকেন, অপরদিকে জ্বলন্ত উনুন, তার সামনে হাঁটু মুড়ে উবু হয়ে বসে রুটি সেঁকছেন এক বৃদ্ধা আর তাঁকে রুটি বেলে দিচ্ছেন এক বৃদ্ধ। দুই বৃষ্টিস্নাত আগুন্তুককে দেখে তাঁদের মধ্যে কোনও কৌতূহলই দেখলাম না। বৃদ্ধ ঘোলাটে চোখ নিয়ে আমাদের দিকে তাকালেন এবং তর্জনি দিয়ে ইশারা করলেন ওই দড়ির খাটে বসতে।তারপর আবার ঘুরে রুটি বেলতে শুরু করলেন। আমরাও মন্ত্রবৎ বসে পড়লাম কোনও কৈফিয়ত না দিয়ে। আর ওই বৃদ্ধা তো আমাদের দিকে একবারের জন্যও ঘুরে তাকাননি, এমনকি স্বামীকেও জিজ্ঞেস করলেন না আমাদের ব্যাপারে। ফলে ওই বৃদ্ধার মুখ আমরা দেখতে পাইনি, শুধু বৃদ্ধের ঘোলাটে চোখ, কুঞ্চিত কপাল, কাঁপা কাঁপা ঠোঁট আর ডান হাতের তর্জনির ইশারা আজও স্পষ্ট দেখতে পাই। এরপর আজ অবধি ওই পথে আর যাওয়া হয়নি, বিপ্লবও গেছে কিনা জানি না। ফলে সেই বৃদ্ধ দম্পতি আজও সেই জঙ্গলের ভেতর আছেন কিনা তা আমার অজ্ঞাতই রয়ে গেছে। রয়ে গেছে আমার দেখা অনেক অনেক স্বপ্নের একটি হয়ে। আমার এই বন্ধুর সাথে আমি এরকম অনেক জায়গা ঘুরেছি বাইকে এবং এমন কিছু ঘটনা ও মানুষের সম্মুখিন হয়েছি যা আমার কাছে স্বপ্নের মতো, সেইসব মানুষের বেঁচে থাকা, জীবন দর্শন আমাকে অভিভূত করেছে, শিক্ষা দিয়েছে।

স্বপ্ন দেখার সময়, আমরা যে স্বপ্ন দেখছি এই বোধ সাধারণত হয় না। আর হয় না বলেই স্বপ্নের সমস্ত ঘটনাকে সেইসময় সত্য বলে মনে হয়। আমি কয়েকবার ঘুমের মধ্যে এই বোধকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি, সে এক অদ্ভুত আনন্দ, অর্থাৎ স্বপ্ন দেখার সময় বুঝতে পারছি যে আমি স্বপ্ন দেখছি, ফলে সেই সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে নৈর্ব্যক্তিকভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নকে দেখা। আবার কখনও কখনও সচেতনভাবে স্বপ্নকে টেনে বড় করা, অর্থাৎ স্বপ্ন যেখানে শেষ হয়ে যাচ্ছে সেখানে শেষ হতে না দিয়ে ঘটনা দীর্ঘায়িত করা, হ্যাঁ এও দু-তিনবার করতে পেরেছি। আবার ঘুমের মধ্যে কবিতার লাইন পাওয়া বা গল্প-উপন্যাসের পূর্বাভাষ খুবই পরিচিত ঘটনা, অনেকের মত আমিও কবিতার অনেক লাইন পেয়েছি স্বপ্নে, তার বেশির ভাগ হারিয়ে গেছে, কিছু কবিতা হয়ে উঠেছে, স্বপ্নে দেখা ঘটনা নিয়ে একটি কবিতা সিরিজ লিখেছিলাম, ‘স্বপ্নচরিত’। তবে তার জন্য কোলরিজ সাহেবের মতো ওপিয়াম সেবন করতে হয়নি। শুধু শিল্পসাহিত্যে কেন, বিজ্ঞানের অনেক আবিষ্কারের পেছনে স্বপ্নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা আমরা জানি। রসায়নবিদ কেকুলে বেঞ্জিনের স্ট্রাকচারটি নাকি স্বপ্নেই পেয়ে ছিলেন, আবার সেই কবে সেলাইমেশিনের সুঁচও নাকি স্বপ্নেই আবিষ্কৃত হয়েছিল। আবার ব্ল্যাক ম্যাজিক, ভবিষ্যতবাণী ইত্যাদি অবৈজ্ঞানিক প্রথাগুলিতেও স্বপ্নের বড় ভূমিকা আছে। তার কতটা সত্য দেখা স্বপ্ন আর কতটা স্বার্থচরিতার্থ করার জন্য বানানো তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ আছে।
তবে এই যে বললাম, স্বপ্নে কোনও দ্বিতীয় দর্শক থাকে না, হ্যাঁ কথাটা ঠিক, কিন্তু কিছু কিছু স্বপ্ন আছে যা হয়তো আমরা সবাই দেখি; যেমন ঘুমের মধ্যে দেখছি আমি ওপর থেকে নীচে পড়ে যাচ্ছি, কিংবা কোনও হিংস্র প্রাণী তাড়া করেছে, কিংবা কেউ আমায় মারার চেষ্টা করছে বা বাড়িতে চোরডাকাত ঢুকেছে অথচ আমি চিৎকার করতে পারছি না, এইসব। মনোবিজ্ঞানীরা এইসব স্বপ্নের বিজ্ঞানস্মমত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, দেখিয়েছেন আমাদের পূর্বপুরুষ সেই আদিম মানুষদের জীবন ধারণ, বেঁচে থাকার লড়াইয়ের সাথে যোগাযোগ আছে আমাদের অনেক স্বপ্নের, যাকে বলে জিনগত প্রভাব।
মহাকাশ বিজ্ঞানে ইভেন্ট হরাইজেন নামে একটি কথা আছে, বাংলায় যাকে ঘটনাদিগন্ত বলে। যা পেরিয়ে গেলে শুরু হয় ব্ল্যাকহোলের আওতা, যেখানে পদার্থবিজ্ঞানের কোনও সূত্রই খাটে না। এই ঘটনা দিগন্তের এস্‌কেপ ভেলোসিটি আলোর গতিবেগের সমান। এই ব্ল্যাক হোলের সীমার মধ্য থেকে কোনকিছুই ফিরে আসতে পারে না, এমনকি আলোও। স্বপ্নও তো তাই, বাস্তবের কোনও নীতিনিয়মকেই সে গ্রাহ্য করে না, একই সময়ে সামান্য এদিকেওদিকে ঘটতে পারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ফরাসি বিদ্রোহ, একই সময়ে গৌতম বুদ্ধ আর অতীশ দিপঙ্কর হাত ধরাধরি করে হেঁটে যেতে পারেন স্বপ্নের ভেতর, কিংবা আইনস্টাইনের সাথে দেখা হয়ে যেতে পারে স্টিফেন হকিং-এর, কে যে কার কালে দাঁড়িয়ে আছেন তাও বোঝার উপায় থাকে না। সময় আর স্থানকে ওলটপালট করে দিয়ে, মিলিয়েমিশিয়ে দিতে পারে স্বপ্ন।
তাই মানুষ আজও স্বপ্ন দেখে দিনবদলের, স্বপ্ন দেখে সাম্য মৈত্রি ঐক্যের, স্বপ্ন দেখে খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার, স্বপ্ন দেখে অথৈ জলে ডুবতে ডুবতে খড়কুটো ধরে তীরে ফেরার। তবে এসব স্বপ্ন ঘুমিয়ে দেখা যায় না, চোখ খোলা রাখতে হয়। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই বলা যায় মানুষের জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, সে ঘুমিয়ে হোক কিংবা জেগে। মানুষের বরাবরের চেষ্টা থাকবে বাস্তবে এক স্বপ্নাঞ্চল তৈরি করার।