বড় খেলা

প্রলয় মুখার্জী

ফুটবল সম্পর্কে আমার কেউ নয়।যা আছে তা আমার আত্মীয়।কিছু লম্বা মাঠ আর খড়ের গোড়ায় পচে যাওয়া ধানের ঈশ্বর।এক বুক কাদা নিয়ে গেয়ে ওঠা গ্রাম।এখানে পড়ে যাওয়ার খুশিতে সবাই খেলে।কে হেরেছে কে জিতেছে সব ভুলে যাওয়া শুরু হয়। শুরু হয় বইয়ের ভেতর থেকে সাধককে টেনে আনা।অর্ণবদা অবশ্য গাছের বাইরে আসতে চায় না।কচুপাতা মাথায় নিয়ে বল খুঁজতে যায় না।বাতাবী লেবু খুঁজে পাওয়ার আনন্দে কেলোকে জড়িয়ে ধরাও অর্ণবদার নেই।ও ব্যাগ রেখে ঝিঙে ক্ষেতে চুপচাপ বসে থাকে। ফিঙে পাখির বাসা থেকে লাল পিঁপড়ে সরিয়ে দেয়। নারকেল ফুল হাতে নিয়ে বলে বড় বড় খেলা সবসময় নির্জনের।কোলাহলের না। লেবু ফুল তার পেকে ওঠার প্রতিশ্রুতি পায় নির্জনে। গাছ তার ভালবাসা দিয়ে কোলে পিঠে লেবু মানুষ করে। তার গোল হওয়ার সুযোগ নিয়ে লাথি মারা কোনো খেলা নয়। এই বলে অর্নব দা খাতা বের করে। তাতে কচ্ছপের ডিম আঁকা। বুক পকেট থেকে কচি লেবু বের করে বলে গোলকের বাইরেটাই আমরা দেখি। দুজনেই সমান গোল।আসল খেলা হয় এর ভেতর।খাতার পাতা ওল্টালে গোলের ভেতর ভ্রুণ দেখা যায়। একটু একটু বড় হয় ভ্রুণ। একসময় ওই গোল ভেঙে কচ্ছপ বেড়িয়ে আসে। সমূদ্রের উদ্দেশ্যে যায়।খাতা পেন্সিল বের করে অর্ণব দা কচ্ছপকে সমূদ্রে ছেড়ে আসে। আমায় কচি লেবুর ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। চ্যাপ্টা লেবু দানা কচ্ছপের মত বসে আছে।গান গাইছে লেবুগাছ হওয়ার আশা নিয়ে। অর্নব দা ছবি আঁকতেই থাকে। অঙ্ক খাতা জুড়ে বিশাল বড় লেবু আঁকে। আমায় প্রশ্ন করলে বলি বাতাবী লেবু। অর্ণব দা আরো কিছু লাইন টানে।বাতাবী লেবুর নীচে দুটো পা জন্ম নেয়। বাতাবী লেবুর ওপরে দুটো বুক জন্ম নেয়। অর্ণবদা পেন্সিল দিয়ে কাপড় পড়ায়।চন্দনের টিপ আঁকে। আস্তে আস্তে বাতাবী লেবু স্বপ্নাদি হয়ে যায়।স্বপ্নাদি অর্ণবদার প্রেমিকা।রেল অ্যাক্সিডেন্টে যারা প্রায়ই মারা যায়। লেবুর মত গোল জায়গাটা সপ্নাদির পেট। উঁচু পেটে যত্নের হাত ভরে দাঁড়িয়ে আছে স্বপ্নাদি।অর্ণব দা পেনসিল দিয়ে নেলপলিশ পড়ায়। চোখে জোছনা নামায়। পেটের ভেতর আমায় স্কেচ করে বলে এটা তুই। রেখা দিয়ে আমার ভ্রুণ স্থাপন করেছে। নাড়ি জড়িয়ে জলে ভাসছি। এবার লাথি মার দেখি।এটাও গোল।সব বড় বীজের খোলস গোল। যার ভেতরটা তুই। বাইরেটা স্বপ্না। এই পৃথিবী, সূর্য, আপেল সব গোল।খেলা তো প্রাণের বাইরে নয়। লেবুর ভেতর ঘটে। ডিমের ভেতর ফোটে।আমরা নির্জনের সন্ধান পাই না। ওপর থেকে লাথি মারি।ডিম ফাটাই। এ কথা বলে স্বপ্নাদিকে নিয়ে অর্ণব দা চলে যায়। আমার জন্ম নিয়ে চলে যায়। আনারস বন ভেঙে রাজু আবার বেড়িয়ে আসে। হাতে বিশাল বড় বাতাবী লেবু। কাজলদার বাগান ভেঙে এনেছে।লেবুর ভেতর থেকে অজস্র বাগান রাজুর পায়ে গড়িয়ে পড়ছে। খেলার মাঠে ছড়িয়ে পড়ছে বাগান।রাজু লেবুতে লাথি মারতে মারতে গোল দিচ্ছে।ছোটোদার দোকান থেকে মান্নাদের গান ভেসে আসছে সব খেলার সেরা বাঙালীর তুমি ফুটবল।